ট্রাফিক পুলিশের ডিজিটাল পস প্রিন্টার কি গ্রাহক সেবায় অবদান রাখছে?

38

আসাদুজ্জামান লিটন ॥ তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর বাংলাদেশে ২০১৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ডিজিটাল ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস পস প্রিন্টারে মামলা রুজুর কার্যক্রম শুরু করে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ। চীন থেকে প্রাথমিক পর্যায়ে ৪৫০টি পস মেশিন আমদানি করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। পস প্রিন্টার ডিভাইসটি মূলত মোবাইল সিম কার্ড দ্বারা চালিত। এ ডিভাইসটি সম্পূর্ণ আধুনিক ও মানসম্মত। অতি অল্প সময়ে অধিক মামলা করার ক্ষেত্রে পস প্রিন্টারের জুড়ি নাই। সহজে বহন যোগ্য এই পস প্রিন্টার। ডিজিটাল ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস পস প্রিন্টারে মামলা রুজু করার সঙ্গে সঙ্গে গাড়ির জরিমানাসহ সব তথ্য তাৎক্ষণিক ডিএমপির কেন্দ্রীয় সার্ভার ও সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে জমা হয়।

বিগত দিন গুলিতে রাস্তায় কর্তব্যরত সার্জেন্টগণ আইন ভঙ্গ বা অমান্য কারীদের মামলা ও জরিমানা করতেন নিউজপ্রিন্ট কাগজে ছাপানো মামলার বই দিয়ে। তৎকালিন সময়ে সার্জেন্টগণ হাতে লিখে লিপিবদ্ধ করতেন অপরাধী নাম, ঠিকানা, অপরাধের ধরন, গাড়ির নাম্বার ও জব্দকৃত কাগজপত্র সহ প্রয়োজনীয় যাবতীয় তথ্যাদি। সারাদিনের মামলার হিসেব নিয়ে ডিউটি শেষ চলে যেতেন ট্রাফিক উপ-পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে। সকল মামলার অফিস কপি ও গাড়ির জব্দকৃত কাগজপত্র বুঝিয়ে দিতেন প্রসিকিউশন সেকশনের দায়িত্বে থাকা প্রসিকিউশন ইনচার্জ এর নিকট। এই পক্রিয়ার মাধ্যমে কাজ শেষ করতে যেমন প্রয়োজন ছিলো অতিরিক্ত সময়ের ঠিক তেমনি প্রয়োজন ছিলো অতিরিক্ত লোকবলের ।

অপরদিকে গাড়ির মালিক বা ড্রাইভারগণ মামলার নথিথে উল্যেক্ষিত মামলা খারিজের জন্য হাজির হওয়ার শেষ তারিখের আগ মূহুর্তেই ভিড় জমাতেন নিজ নিজ এলাকার ট্রাফিক অফিসে। নির্ধারিত জরিমানা দিয়ে মামলা খারিজ করার উদ্যেশ্যে দীর্ঘ সময় ধরে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতেন গাড়ির মালিক বা চালকগণ। কাউন্টার হতে নাম ও গাড়ির নাম্বারসহ কখন ডাকবেন সেই অপেক্ষায় চাতক পাখির মত অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতেন কাউন্টারের দিকে। ডাক আসার সাথে সাথে ক্যাশ কাউন্টারে জরিমানার টাকা পরিশোধ করে টাকার জমার রশিদসহ নিজ গাড়ির জ্বদকৃত কাগজটি বুঝে নিতেন অতি আনন্দের সাথে।