রাধিকার সঙ্গে মেট্রো রেলে

28

রাধিকাকে দেখতাম সকাল সাড়ে ৭টার মেট্রোর সিটে বসে এক মনে অ্যালিস্টেয়ার ম্যাকলিনের ‘সান্তোরিনি’ পড়তে। কয়েক দশক আগের কথা, তখন মেট্রো রেলের দৌড় ছিল মাত্র টালিগঞ্জ থেকে এসপ্ল্যানেড পর্যন্ত। আমারও দৌড় ছিল এসপ্ল্যানেড। একটি বেসরকারি ব্যাংকে জয়েন করেছি সবে। ঠিক সময়ে হাজিরা দেওয়া চাই। সকাল সাড়ে ৮টার আগে মেট্রোতে খুব একটা ভিড়ও হতো না। অল্প কয়েকজন ছড়িয়ে-ছিটিয়ে বসে অফিস যেতাম। মুখ চেনা হয়ে গিয়েছিল নিজেদের মধ্যে। মনে পড়ে, লোরেটোর মর্নিং স্কুলের বাচ্চা মেয়েরা হইহই করতে করতে যেত। শীতের সকালগুলোতে ওদের মাথায় রঙিন খরগোশ-টুপি পরিয়ে দিত মায়েরা। ছোট্ট ছোট্ট খরগোশের মতো ওরা কম্পার্টমেন্টের ভেতর ছোটাছুটি করে বেড়াত। শীতের মেট্রো সরগরম থাকত। অনেক চেনা মুখ অবশ্য কুয়াশায় মিশে থাকত বিশেষ ক’টা দিন, ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে জানুয়ারির প্রায় মাঝ পর্যন্ত। সাড়ে ৭টায় স্টেশনের সামনে এক ভাঁড় গরম চা খেয়ে টালিগঞ্জ থেকে আমি যখন ট্রেনের সামনের দিককার কম্পার্টমেন্টে উঠে পড়তাম, দেখতাম, অনেক খরগোশ-টুপি পরা বাচ্চা আর কলকল করে একনাগাড়ে কথা বলে যাওয়া তাদের মায়েরা ছাড়া সামনে-পেছনে আর কেউ নেই। রাধিকাকে আমি সে রকমই অনেকগুলো বাচ্চার মুখ পেরিয়ে প্রথম দেখি।

বাচ্চারা এর-ওর ঝুটি ধরে টান মারছে, খরগোশ-টু