চলে অরণ্য বিহার : ইলিয়াছুর রহমান রুশ্নি

16

হৃদয়ের চৌকাঠ পেরিয়ে তুমি এলে নিরবে নিভৃতে
ঘোর অমানিশা কাটিয়ে, জোৎস্না প্লাবিত রাতে।
আমি মুখরিত হই তোমার মধুর সান্নিধ্যে
খুঁজে পাই সুখের পরশ তোমার শরীরের ঋজুতায়।
তোমার ঠোটের মিষ্টি হাসিতে ঝরে পড়ে মুক্তা রাশিরাশি
হৃদয়ের উষ্ণতায় দ্রবীভূত হয় সকল দুঃখ গ্লানি।
সফেন সমুদ্রের মত উত্তাল বয়ে যায় সুখের প্রপাত
দিগন্তে উদিত নব সূর্যের অপার সম্ভানায়।
তোমার অবয়বখানি যেন কোন মহাকাব্যের পটভূমি
প্রস্ফুটিত ভক্তি জবার মতই পূজারির হাতের অর্ঘ।
হৃদয়ের উদ্যানে বয়ে যাওয়া ভালোবাসার উষ্ণ পরশ
জাগায় শিহরণ লোহিত কণিকায় মধুর আবেশে।
মুখর ভালোবাসায় কাটে নিঝুম রাত
স্মৃতিরা গড়ে তোলে মিনার যেন কোন বাতিঘর।
পথ দেখায় বিভ্রান্ত প্রেমিক প্রেমিকাকে গন্তব্যের
জলের মতই গতিপথ খুঁজে, চলে অরণ্য বিহার।
আমার প্রাঙ্গনে ছড়িয়ে থাকা পুষ্পিত সুবাস
উচ্ছ্বাস ভরা জীবনের বুনো হাওয়া।
জোনাকীর আলো, রঙধনুর সাতরঙ অপরূপতা
পাখীর কলরব, মাঝিমাল্লার ভাটিয়ালি গানের মূর্ছনা।
আমার জীবনের উন্মুক্ত গতিপথে তোমার বিচরণ
অবারিত সবুজের বিস্তীর্ণ মাঠে সোনালী সম্ভাবনা।
তোমার ব্যঞ্জনায় রচিব আমি অমর কোন মহাকাব্য
যেন শিরি ফরহাদ, লায়লী মজনু, রাধাকৃষ্ণ উপাখ্যান।
জানালায় বিস্তৃত দৃষ্টিপথে স্মৃতির অবাধ আসা যাওয়া
প্রিয়াবিহনে নির্ঘুম রাতের মতই বিষাদময়।
কাটে না প্রহর লিখে যাই দুঃখের পদাবলী
নিঃসঙ্গ মগ্নতায় আঁকি বিবর্ণ কোন প্রচ্ছদপট।
যদি কোনদিন হারিয়ে যাও যোজন যোজন দুরে
হৃদয়ের উষ্ণতায় খুঁজে নেব ঠিকই, প্রেমীদের ভীড়ে।
দেব না কভু হারিয়ে যেতে, রাখবো মমতায় জড়িয়ে
আকাশের উদারতায়, সাগরের গভীরতায় গহীনে।