মেয়েদেরও কোটা ছাড়া চাকরি পাবার যোগ্যতা আছে : মাহবুবা স্মৃতি

47

সকালের দিকে আমাদের রোকেয়া হলের হাউজ টিউটর ম্যাম ছাত্রীদেরকে বলেন,”আচ্ছা মেয়েরা,তোমরা কেন কোটা সংস্কারের জন্য আন্দোলন করছো?তোমাদের তো কোটা আছে!”কথাটা শুনে হাসি পেয়েছিল খুব।ম্যামদের অবগতির জন্যই বলছি,আমরা যারা কোটা সংস্কার আন্দোলনকে সমর্থন করছি+নিজেরাও যাচ্ছি..তারা কেউ’ই নারী কোটার পক্ষপাতী নই।নিজ যোগ্যতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়ে সবাই পড়ছি,তখন তো আমাদের কোটার দরকার পরেনি,এখন কেন পড়বে? আমাদের কোটার দরকার নেই…কারণ আমরাও পারি, মেয়েদেরও কোটা ছাড়া চাকরি পাবার যোগ্যতা আছে।

অবশ্য টিচাররা যে সবাই সমর্থন করবে,এটা যেমন ভাবতে পারবো না। তেমনি টিটাররা যে সবাই আমাদের অসমর্থন করবে, তা -ও কিন্তু ভাবা ঠিক নয়!আমরা ইতোমধ্যে টিচারদের বিভিন্ন অবস্থানের প্রমাণ পেয়েছি।
যেমন একটু আগের একটি ঘটনাই শুনুন না..
কিছুক্ষণ আগে হাউজ টিউটর রুমে গিয়েছিলাম একটা বিশেষ কাজে। গিয়ে দেখি ৩জন ম্যাম বসে আছেন,এবং নিজেদের মতো করে গল্প.. মানে আলোচনা করছেন। কোনো খোশগল্প নয়,অবশ্যই কোটা সংস্কার নিয়ে আলোচনা।
ওনাদের আলোচনার সারমর্ম হলো, ৫৬% কোটা!এতো কোটা রাখা কি সত্যিই খুব প্রয়োজন!৫৬%কোটা নিশ্চয় কোনো স্বাভাবিক মস্তিষ্কের মানুষ মেনে নিবেনা!জেলা কোটা রাখার ই বা দরকার কি?” ম্যামের কাছ থেকে পেপারে সিগনেচার নিয়ে চলে আসি, বাকি আলোচনা শোনার সৌভাগ্য আর হলো না। তবে আসার সময় ভাবছিলাম, মনে মনে কৃতজ্ঞতাও জ্ঞাপন করছিলাম ম্যামদের প্রতি। ‘বাহ! এটাই তো চেয়েছিলাম, ঢাবির প্রতিটা টিচার আমাদের কোটা সংস্কার আন্দোলনকে সমর্থন দিবে। হয়তো অনেক টিচার মনে মনে সমর্থন করলেও নিজ অবস্থানের কারণে কিছু বলতে পারে না (অবশ্য কোনো কোনো টিচার যে সামনাসামনি সমর্থন করেনি, এমন নয়)।
আমরা চাই, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ প্রতিটা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা প্রকাশ্যে না পারুক, অন্তত মন থেকে আমাদের সাপোর্ট দিক, নিজেদের মধ্যে হলেও আলোচনা করুক। আমি জানি, এইভাবে নিজেদের মধ্যে আলোচনার প্রেক্ষিতে ঠিকই সবাই প্রকাশ্যে সাপোর্ট করবে।